আমাদের দেশে অনেকেই অনেক সময় না জেনে বা জেনেশুনেই সরকারি খাস জমি, রাস্তাঘাট, ফুটপাত, রেললাইন বা জলাশয়ের আশপাশে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি বা দোকানপাট নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। সাময়িকভাবে এটি একটি সহজ সমাধান মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি সম্পত্তি আইনগতভাবে রাষ্ট্রের তথা জনগণের মালিকানাধীন। তাই সেখানে বিনা অনুমতিতে ঘর তোলা বা স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করা সরাসরি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যখনই প্রশাসন বা ভূমি মন্ত্রণালয় এই ধরনের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে, তখন বিনা নোটিশে বা সংক্ষিপ্ত নোটিশে বুলডোজার দিয়ে সেসব ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন মাথা গোঁজার ঠাঁই চিরতরে হারিয়ে যায়, অন্যদিকে মূল্যবান আসবাবপত্র ও ঘর তৈরির সামগ্রী নষ্ট হওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। শুধু উচ্ছেদ করেই প্রশাসন থেমে থাকে না; বরং সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি জবরদখল বা অবৈধভাবে ব্যবহার করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড এবং বড় অংকের আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি জমিতে বসবাসকারী ব্যক্তিরা কখনোই আইনগতভাবে জমির মালিকানা (দলিল বা খতিয়ান) পাবেন না। ফলে তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা সুপেয় পানির মতো সরকারি মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত থাকেন। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব বা স্থানীয় মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ এসব জমিতে ঘর তুলে সর্বস্বান্ত হন। তাই যেকোনো আইনি ঝামেলা এবং বড় ধরনের বিপদ এড়াতে সরকারি জমিতে ঘর তোলার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা এবং বৈধ পন্থায় আবাসন নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।