TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH
পারিবারিক জীবন বা দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন কারণে ভুল বোঝাবুঝি বা অমিল সৃষ্টি হতে পারে। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে এটি একটি সংবেদনশীল মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর আদায়, খোরপোশ ও ভরণপোষণ দাবি কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্বের আইনি প্রক্রিয়ায় ভুল সিদ্ধান্ত আপনার জীবনের অধিকারগুলোকে সংকুচিত করে দিতে পারে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এবং অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ এর অধীনে সঠিক নিয়মে আইনি লড়াই পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। টাঙ্গাইল পারিবারিক আদালতের অভিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ প্রতিটি কেস অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করে থাকেন।
পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে আমরা নিম্নলিখিত মামলাগুলোতে সরাসরি আইনি সহায়তা প্রদান করছি:
পারিবারিক দ্বন্দের সবচেয়ে বড় শিকার হয় সাধারণত সন্তানরা। অনেক সময় স্বামী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তালাক নোটিশ জারি না করেই পুনরায় বিবাহ করেন, যা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। আবার স্ত্রী দেনমোহরের ন্যায্য দাবি বঞ্চিত হন। পারিবারিক সংকট সমাধানে দেওয়ানি আইনের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও ফৌজদারি প্রতিকার চাইতে হয়। সঠিক সময়ে আইনি পরামর্শ ও নোটিশের মাধ্যমে অনেক দীর্ঘমেয়াদী কোন্দল ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
পারিবারিক মামলা দায়েরের প্রসেসটি সাধারণত স্থানীয় জুরিডিকশনের মধ্যে পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে শুরু হয়। যেমন, স্ত্রী যদি বর্তমানে টাঙ্গাইলে বসবাস করেন, তবে টাঙ্গাইল পারিবারিক আদালতে মামলাটি রুজু করা যাবে। সমন জারির পর আদালত প্রথমে আপোষ-মীমাংসার (Mediation) চেষ্টা করেন। আপোষ না হলে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক ডিক্রি বা রায় প্রদান করেন। দেনমোহর বা ভরণপোষণের ডিক্রি অমান্য করলে পরবর্তীতে জারি মামলা (Execution Case) রুজু করে ডিক্রিকৃত অর্থ বা সম্পত্তি উদ্ধার করা যায়।
পারিবারিক বিষয়ের ধরন অনুযায়ী সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়:
টাঙ্গাইল জেলার পারিবারিক আদালতগুলোতে নিয়মিত দেওয়ানি প্র্যাকটিস এবং আপোষ-মীমাংসা ট্রায়ালের ক্ষেত্রে এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ প্রতিটি ক্লায়েন্টকে ব্যক্তিগত মনোযোগ প্রদান করেন। টাঙ্গাইল আদালতের সমন নোটিশ প্রদান, স্থানীয় সালিশি বৈঠক ও রিট আবেদনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে তিনি সফল প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
উত্তর: কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) দেওয়া থাকলে স্ত্রী তালাক প্রদান করতে পারেন। তালাক নোটিশ স্বামী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র বরাবরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠাতে হবে এবং ৯০ দিন পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর হয়।
উত্তর: বিবাহ চলমান থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করা যায়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ৩ বছরের মধ্যে দেনমোহর আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে, অন্যথায় তামাদির কারণে মামলাটি অগ্রাহ্য হতে পারে।
উত্তর: না। তালাক নোটিশ সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা মেয়রের নিকট পৌঁছানোর পর থেকে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয় না। এই ৯০ দিনের মধ্যে সালিশি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
উত্তর: মুসলিম আইন অনুযায়ী ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি বা বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত মা তার হেফাজতে রাখার অধিকারী। তবে সন্তানের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে আদালত যেকোনো সময় অভিভাবকত্বের রায় পরিবর্তন করতে পারেন।
উত্তর: স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন বা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারা অনুযায়ী কোনো মিথ্যা নালিশ করা হলে, দ্রুত টাঙ্গাইল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করতে হবে। উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করে চার্জ গঠনের সময় মামলা থেকে খালাস পাওয়ার আইনি আবেদন করা যায়।