TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH
ফৌজদারি মামলা বা অপরাধ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে। ভুল এজহার দায়ের বা চার্জশিটে অসঙ্গতি সনাক্ত করতে না পারলে নির্দোষ ব্যক্তিও হয়রানি বা দীর্ঘ কারাদণ্ডের শিকার হতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮ এবং দণ্ডবিধি (Penal Code), ১৮৬০ অনুযায়ী জামিন লাভ, তদন্তের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা এবং আদালতে জেরা ও জবানবন্দী গ্রহণের সঠিক কৌশলই একটি মামলার মূল রক্ষাকবচ। টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা দায়রা জজ আদালতের নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ ফৌজদারি মামলার আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করছেন।
আমরা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে আইনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করি:
ফৌজদারি মামলার প্রথম পদক্ষেপটি থানা বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শুরু হয়। গ্রেফতার হওয়ার সাথে সাথে অভিযুক্তের প্রথম অধিকার হলো জামিনের জন্য আদালতে উপযুক্ত লয়ার নিয়োগ করা। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট (Charge Sheet) দেওয়ার পর যদি কোনো অসঙ্গতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ থাকে, তবে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী চার্জ গঠনের শুনানিতে মামলা হতে অব্যাহতি পাওয়ার যৌক্তিক দাবি জানানো যায়।
থানায় এজহার বা এফআইআর দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তদন্তের সময় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে। আমরা প্রথমে মামলার সার্টিফাইড অনুলিপি (Certified Copy) সংগ্রহ করি এবং বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের শুনানির প্রস্তুতি নিই। জামিন মঞ্জুরের পর মামলার বিচার কাজ বা ট্রায়াল শুরু হলে আমরা সাক্ষীদের জেরা (Cross-examination) করে সত্যতা উদঘাটন ও ক্লায়েন্টের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা করি।
ফৌজদারি মামলায় সাধারণত নিম্নলিখিত নথিসমূহ সংগ্রহ করা জরুরি:
টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করে আসছেন এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ। পুলিশ চার্জশিট চ্যালেঞ্জ করা, মিথ্যা যৌতুক মামলা বা চেক জালিয়াতির এনআই অ্যাক্ট মামলায় দ্রুত জামিন লাভের জন্য তিনি নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা হিসেবে ক্লায়েন্টদের সেবা দিচ্ছেন।
উত্তর: থানায় দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে যে বিচার শুরু হয় তাকে জিআর বা জেনারেল রেজিস্টার মামলা বলে। আর সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি পিটিশন দায়ের করার মাধ্যমে যে বিচার শুরু হয় তাকে সিআর বা কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার মামলা বলে।
উত্তর: মিথ্যা মামলায় অযথা গ্রেফতার এড়াতে বা হয়রানির আশঙ্কা থাকলে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো যুক্তি দেখিয়ে উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন আবেদন করা সম্ভব হয়।
উত্তর: তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করার পর যদি আপনার নাম অভিযুক্তদের তালিকায় থাকে, তবে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে হবে এবং চার্জ গঠনের দিন অব্যাহতি চেয়ে লড়াই করতে হবে।
উত্তর: নালিশি আরজিতে ভুল বা সাজানো তথ্য থাকলে, উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ জেরায় তুলে ধরার মাধ্যমে খালাস পাওয়া যায়। এছাড়া মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী পাল্টা মামলা করে ক্ষতিপূরণের দাবি করা সম্ভব।
উত্তর: হ্যাঁ। নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (NI Act), ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ড বা চেকের অঙ্কের তিনগুণ অর্থদণ্ড হতে পারে।