ADVOCATE
ABDUR RAHMAN ASAD

TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH

কোম্পানি আইন

ভূমিকা ও ব্যবসায়িক আইনি পরামর্শ

ব্যবসায়িক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং আইনি ঝামেলা মুক্ত রাখতে কোম্পানি আইন ও করপোরেট কমপ্লায়েন্সের কোনো বিকল্প নেই। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর অধীনে নতুন পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন করা, যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) থেকে নাম ছাড়পত্র সংগ্রহ এবং কোম্পানি মেমোরেন্ডাম (MoA) প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পদ্ধতিগত। এছাড়া করপোরেট অংশীদারদের বিরোধ ও লিগ্যাল ড্রাফটিং সঠিকভাবে না করলে ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। টাঙ্গাইল ও ঢাকা অঞ্চলে ব্যবসায়িক কোম্পানি আইনের আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ কোম্পানি সংক্রান্ত সব ধরনের লিগ্যাল সেবা প্রদান করছেন।

আমাদের সেবাসমূহ (Corporate & Business Law Services)

আমরা কোম্পানি ও বাণিজ্যিক আইনের আওতায় নিম্নলিখিত লিগ্যাল সেবা প্রদান করে থাকি:

  • কোম্পানি গঠন ও নিবন্ধন (Company Incorporation): আরজেএসসি (RJSC) থেকে লিমিটেড কোম্পানি গঠন, শেয়ারহোল্ডার চুক্তি এবং নিবন্ধন সনদ লাভ।
  • শেয়ার হস্তান্তর ও মূলধন বৃদ্ধি (Share Transfer & Capital Increase): কোম্পানির পরিচালক পরিবর্তন, শেয়ার স্থানান্তর এবং অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির আইনি সমাধান।
  • ট্রেড লাইসেন্স ও শুল্ক সংক্রান্ত নিবন্ধন: ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ই-টিআইএন (TIN) এবং ভ্যাট (VAT) রেজিস্ট্রেশন।
  • বাণিজ্যিক চুক্তি ও ড্রাফটিং (Commercial Contracts): পার্টনারশিপ ডিড, ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি, ভেন্ডর এগ্রিমেন্ট এবং চাকরির চুক্তি লিগ্যাল ড্রাফটিং।
  • কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন ও ফাইলিং: প্রতি বছর আরজেএসসি কার্যালয়ে নিয়মমাফিক প্রয়োজনীয় ফর্ম ও অডিট রিপোর্ট ফাইলিং সম্পন্ন করা।

ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্স ও সুরক্ষার গুরুত্ব

অনেকে শুধুমাত্র পার্টনারশিপ দলিল করে ব্যবসা শুরু করেন, কিন্তু পরবর্তীতে অংশীদারদের বিরোধ ও লাভের অংশ নিয়ে আইনি দ্বন্দে পড়েন। কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA) এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA) সঠিকভাবে প্রস্তুত করা না থাকলে অংশীদারদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা দুরূহ হয়। এছাড়া আরজেএসসিতে বার্ষিক রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ঝুঁকি থাকে। উপযুক্ত আইনজীবী মারফত প্রথম থেকেই করপোরেট কাঠামো গড়ে তোলা ব্যবসাকে ভবিষ্যৎ বিপদ থেকে রক্ষা করে।

কোম্পানি গঠন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া

কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ধাপ হলো আরজেএসসি ওয়েবসাইট থেকে কোম্পানির নাম ছাড়পত্র (Name Clearance) সংগ্রহ করা। নাম অনুমোদিত হলে শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য ও মূলধন নির্ধারণ করে MoA ও AoA প্রস্তুত করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সরকারি ফিস পরিশোধ করে কাগজপত্র আরজেএসসিতে অনলাইনে দাখিল করতে হয়। আরজেএসসি কর্মকর্তা নথিপত্র সফলভাবে যাচাই করলে সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন (নিবন্ধন সনদ) প্রদান করেন।

প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রসমূহ (Common Documents Needed)

কোম্পানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয়:

  • অনুমোদিত নামের ছাড়পত্র (Name Clearance Document)।
  • শেয়ারহোল্ডার ও প্রস্তাবিত পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি।
  • কোম্পানির স্মারকলিপি (MoA) ও সংঘবিধি (AoA) এর খসড়া।
  • শেয়ার ক্যাপিটাল ও পরিচালক পদের বণ্টন প্রস্তাবনা।
  • কোম্পানির চেম্বার বা অফিসের ভাড়ার চুক্তিপত্র।
  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের সার্টিফাইড অনুলিপি (যদি থাকে)।

ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার বাণিজ্যিক আইনি সেবা

ব্যবসায়িক সুবিধার্থে ঢাকা এবং টাঙ্গাইলের সাব-রেজিস্ট্রি এবং আরজেএসসি কার্যালয়ের লিগ্যাল কমপ্লায়েন্স তদারকি করে থাকেন এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ। নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও কর সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিনি স্থানীয় চেম্বার ও ঢাকা হাইকোর্ট উভয় স্থানে ক্লায়েন্টদের সহায়তা দিচ্ছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনে ন্যূনতম কতজন শেয়ারহোল্ডার লাগে?

উত্তর: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনের জন্য কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক প্রয়োজন হয়। এছাড়া ওয়ান পারসন কোম্পানি (OPC) নিয়মের আওতায় এখন মাত্র ১ জন শেয়ারহোল্ডার নিয়েও কোম্পানি গঠন করা সম্ভব।

২. আরজেএসসি (RJSC) রেজিস্ট্রেশন করতে কতদিন সময় লাগে?

উত্তর: নাম ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় স্মারকলিপি ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করে অনলাইনে ফাইল জমা দিলে, সাধারণত ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আরজেএসসি থেকে কোম্পানির সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন বা নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়।

৩. কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন (Paid-up Capital) বৃদ্ধি করার উপায় কী?

উত্তর: কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করতে হলে পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাব পাস করার পর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় (EGM) তা অনুমোদন করাতে হবে। এরপর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও নির্দিষ্ট ফরম আরজেএসসিতে দাখিল করে মূলধন বৃদ্ধি করতে হয়।

৪. ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব চুক্তিনামা বা পার্টনারশিপ ডিড কেন নোটারি বা রেজিস্ট্রি করতে হয়?

উত্তর: নোটারি পাবলিক বা রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে পার্টনারশিপ চুক্তি রেজিস্ট্রি করলে তা আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়। ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে লভ্যাংশ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে রেজিস্ট্রিকৃত ডিড প্রমাণ হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়।

৫. লিমিটেড কোম্পানি বন্ধ বা উইন্ডিং আপ করার উপায় কী?

উত্তর: কোনো লিমিটেড কোম্পানি নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ করতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে অথবা শেয়ারহোল্ডারদের স্বেচ্ছায় অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কোম্পানি বন্ধের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর জন্য অবসায়ক (Liquidator) নিয়োগ ও আরজেএসসিতে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান বা কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন?

আমাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করুন এবং সঠিক আইনি সমাধান খুঁজে নিন।

+8801715-625462 অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন