TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH
দেওয়ানি মামলা বা সিভিল লিটিগেশন হলো এমন একটি আইনি ক্ষেত্র যা মানুষের সম্পত্তি, স্বত্ব, চুক্তি এবং ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষার সাথে জড়িত। দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮ এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act), ১৮৭৭ এর জটিল ধারাসমূহ সঠিকভাবে ব্যাখ্যা না করে দেওয়ানি আরজি পেশ করলে মামলাটি খারিজ হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা থাকে। স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি, দলিল বাতিল, বা বায়না চুক্তি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকে। টাঙ্গাইল দেওয়ানি আদালতের সহকারী জজ ও জেলা জজ আদালতে নিয়মিত মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ আপনার দেওয়ানি অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্ভরযোগ্য আইনি সেবা দিচ্ছেন।
দেওয়ানি প্রতিকার লাভের জন্য আমরা নিম্নলিখিত মামলাসমূহ আদালতে সফলভাবে পরিচালনা করে থাকি:
দেওয়ানি মামলার দীর্ঘ সময় লাগার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নথির জটিলতা এবং সাক্ষীদের অপর্যাপ্ততা। কোনো স্থাবর সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ হওয়ার পর অবিলম্বে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) জারির আবেদন না করা হলে প্রতিপক্ষ জমিতে অবকাঠামো তৈরি করে জটিলতা দ্বিগুণ করে দিতে পারে। অতএব, স্বত্ব উদ্ধার এবং নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করার পূর্বে দলিলের সঠিকতা ও সময়সীমা বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়।
দেওয়ানি মামলা পরিচালনার প্রথম ধাপ হলো উপযুক্ত দেওয়ানি আরজি (Plaint) প্রস্তুত করা। আমরা প্রথমে ক্লায়েন্টের বায়া দলিল, আরএস খতিয়ান, নামজারি ও বর্তমান দখলে থাকার প্রমাণ যাচাই করি। আরজি প্রস্তুত করে কোর্ট ফিস পরিশোধপূর্বক টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সমন নোটিশের জবাব দাখিল হলে আমরা এডিআর বা আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করি এবং আপোষ না হলে মূল ট্রায়াল বা শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে রায় ও ডিক্রি অর্জন করি।
দেওয়ানি মামলার ধরন অনুযায়ী সাধারণত নিম্নলিখিত নথিসমূহ প্রস্তুত রাখতে হয়:
এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদ টাঙ্গাইল সদর সহকারী জজ কোর্ট এবং জেলা দায়রা জজ আদালতে নিয়মিত দেওয়ানি ট্রায়াল প্র্যাকটিস পরিচালনা করে আসছেন। জমির দলিল বাতিল, পাওনা টাকা আদায়ের মানি সুট এবং শরিকানা বা বাটোয়ারা মামলার নিষ্পত্তিতে বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে দেওয়ানি আরজি পেশের কাজ সফলভাবে পরিচালনা করছেন।
উত্তর: দেওয়ানি মামলা চলাকালীন বিরোধপূর্ণ জমি যাতে প্রতিপক্ষ বিক্রি, হস্তান্তর বা কোনো স্থাপনা তৈরি করে রূপ পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য মামলা নিষ্পত্তির পূর্ব পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়।
উত্তর: যৌথ মালিকানা বা ওয়ারিশি সম্পত্তির শরিকরা যদি তাদের নিজেদের হিস্যা বা অংশ আপোষে চিহ্নিত বা পৃথক করে নিতে না চান, তবে আদালতের মাধ্যমে নিজ অংশ চিহ্নিত করার জন্য দেওয়ানি আদালতে বণ্টন বা বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা যায়।
উত্তর: বায়া দলিল না থাকলে সরাসরি স্বত্ব দাবি করা বেশ কঠিন। তবে খতিয়ান এবং বায়া দলিলের সার্টিফাইড অনুলিপি জাতীয় আর্কাইভ বা রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করে মামলার আরজির সাথে পেশ করে স্বত্ব সাব্যস্ত করা সম্ভব।
উত্তর: তামাদি আইন অনুযায়ী স্বত্ব হুমকির মুখে পড়ার তারিখ বা প্রতিপক্ষ কর্তৃক স্বত্ব অস্বীকারের তারিখ থেকে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক দেওয়ানি মামলা রুজু করতে হয়।
উত্তর: যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণামূলকভাবে বা জালিয়াতি করে কোনো জমি রেজিস্ট্রি বা দলিল তৈরি করে থাকে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী দলিলটি প্রত্যাহারের জন্য দলিল বাতিলের মামলা করা যায়। এটি দলিল সম্পাদন জানার ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়।