ভূমিকা ও পটভূমি
বাংলাদেশের সমাজে প্রেম করে বিয়ে বা নিজেদের পছন্দে বিবাহ করার ক্ষেত্রে পারিবারিক আপত্তি ও বিরোধের ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ। অনেক সময় পরিবারের অমত থাকায় নবদম্পতিকে নানা ধরনের সামাজিক চাপ, হুমকি কিংবা মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মানুষের স্বাধীনভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আমি সবসময় আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এই অধিকার প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের আইনি ভিত্তি
বাংলাদেশের সংবিধান এবং পারিবারিক আইন অনুযায়ী সাবালক বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি এখতিয়ার পরিবারের বা সমাজের নেই। বয়স পূর্ণ হওয়ার পর প্রত্যেকেই তার জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
"বাংলাদেশের সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে একজন ব্যক্তি সাবালক হিসেবে গণ্য হন, তবে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলের বয়স ২১ বছর হতে হবে।"
পরিবারের আপত্তি ও আইনি সুরক্ষার উপায়
যদি পরিবার বা কোনো তৃতীয় পক্ষ থেকে বিয়ের পর হুমকি বা হয়রানির সৃষ্টি করা হয়, তবে আইনগতভাবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
- মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ - সরকারের নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজির মাধ্যমে যথাযথভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে এবং কাবিননামা সংগ্রহ করতে হবে।
- থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) - পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন থেকে যদি শারীরিক ক্ষতি বা জোরপূর্বক আলাদা করার হুমকি আসে, তবে নিকটস্থ থানায় অবিলম্বে জিডি করতে হবে।
- হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস রিট - যদি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় বা বলপ্রয়োগ করে তুলে নেওয়া হয়, তবে তার স্বামী বা অভিভাবক হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাসের আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করার আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
ভুল ধারণা ও আইনি সতর্কবার্তা
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে অবৈধ। ইসলামী শরিয়ত এবং বাংলাদেশের পারিবারিক আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমতী নারীর নিজের বিয়ে নিজে করার বা উকিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়া বা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বিয়ের আগে অবশ্যই বয়স প্রমাণকারী জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক। পরিবার থেকে যেকোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা অপহরণের মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে আইনি ডকুমেন্টস সবসময় সঙ্গে রাখা নিরাপদ।